Oppo Reno15 Review: প্রিমিয়াম ফিল, শক্তিশালী পারফরম্যান্স আর বিশাল ব্যাটারি!

Oppo চলতি বছরের শুরুতেই Reno15 সিরিজ লঞ্চ করেছে, যেখানে আমরা ইতোমধ্যেই Reno15 Pro (বা Reno15 Pro mini) দেখেছি—একটি কমপ্যাক্ট হলেও ফ্ল্যাগশিপ ভাবনার ডিভাইস। এবার আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে Oppo Reno15, যা মূলত একই প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা একটু কম দামে সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এসেছে। কাগজে-কলমে স্পেসিফিকেশন দেখলেই বোঝা যায়, এটি শুধু “আরেকটা মিড-রেঞ্জ ফোন” নয়; বরং সঠিক দামে এলে ক্লাসে আধিপত্য বিস্তার করার ক্ষমতা রাখে।

প্রিমিয়াম ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি

দামে তুলনামূলক সাশ্রয়ী হলেও Reno15-এর ডিজাইন ও বিল্ডে কোনো রকম আপস করা হয়নি। সামনে ও পেছনে রয়েছে Gorilla Glass 7i, মাঝখানে শক্তপোক্ত অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেম, আর সাথে IP68/IP69 সার্টিফিকেশন—মানে পানি, ধুলো কিংবা হাই-প্রেশার ওয়াটার জেট নিয়েও দুশ্চিন্তা নেই। হাতে নিলে ফোনটি যথেষ্ট স্লিম (৭.৮ মিমি) ও প্রিমিয়াম ফিল দেয়, ১৯৭ গ্রাম ওজন হলেও ভারী মনে হয় না। Oppo-এর সিগনেচার রঙগুলো ফোনটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

ডিসপ্লে: মিড-রেঞ্জে ফ্ল্যাগশিপ লেভেল অভিজ্ঞতা

Oppo Reno15-এ ব্যবহার করা হয়েছে ৬.৫৯-ইঞ্চি AMOLED ডিসপ্লে, যার রেজোলিউশন 1256p এবং রিফ্রেশ রেট 120Hz। ডিসপ্লেটি 10-bit কালার ডেপথHDR10+ সাপোর্ট করে, ফলে ভিডিও দেখা, গেম খেলা কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল—সবকিছুই প্রাণবন্ত লাগে। সর্বোচ্চ 1200 nits ব্রাইটনেস থাকায় রোদেও স্ক্রিন দেখা বেশ স্বচ্ছ। এই দামের ফোনে এমন ডিসপ্লে সত্যিই প্রশংসার যোগ্য।

পারফরম্যান্স: Snapdragon 7 Gen 4-এর শক্তি

ফোনটির ভেতরে রয়েছে Snapdragon 7 Gen 4 (4nm) চিপসেট, যা বর্তমান মিড-রেঞ্জ সেগমেন্টে যথেষ্ট শক্তিশালী। দৈনন্দিন কাজ, মাল্টিটাস্কিং কিংবা গ্রাফিক্স-হেভি গেম—সবই স্মুথভাবে হ্যান্ডেল করতে পারে।

Adreno 722 GPU গেমিং পারফরম্যান্সে ভালো সাপোর্ট দেয়। UFS 3.1 স্টোরেজ এবং 12GB পর্যন্ত RAM থাকার কারণে অ্যাপ লোডিং ও ডাটা ট্রান্সফার স্পিডও সন্তোষজনক।

ক্যামেরা: সংখ্যার চেয়ে ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা বেশি

দামের দিক থেকে মিড-রেঞ্জ হলেও ক্যামেরা সেটআপ বেশ চমকপ্রদ। পেছনে রয়েছে তিনটি ক্যামেরা—

  • ৫০MP OIS প্রাইমারি ক্যামেরা, যা 1x থেকে 2x জুমে ডিটেইল ভালো ধরে
  • ৫০MP OIS টেলিফটো ক্যামেরা, 3.5x অপটিক্যাল ও 7x পর্যন্ত কার্যকর জুমের জন্য
  • ৮MP আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা, যা অটোফোকাস সাপোর্ট করে

ডেলাইট ফটোগ্রাফিতে ছবি শার্প ও কালার ব্যালান্সড আসে। টেলিফটো ক্যামেরা এই প্রাইস রেঞ্জে বড় প্লাস পয়েন্ট। সামনে রয়েছে ৫০MP আল্ট্রাওয়াইড AF সেলফি ক্যামেরা, যা ভিডিও কল, ভ্লগ কিংবা গ্রুপ সেলফিতে বেশ ভালো পারফর্ম করে।

ভিডিও ও মাল্টিমিডিয়া

Oppo Reno15 দিয়ে 4K ভিডিও রেকর্ড করা যায় 60fps পর্যন্ত, সামনে ও পেছন—দুই ক্যামেরাতেই। gyro-EIS থাকায় ভিডিও তুলনামূলক স্টেবল হয়। স্টেরিও স্পিকার থাকার কারণে ভিডিও দেখা ও গেমিং অভিজ্ঞতা আরও উন্নত।

ব্যাটারি: সিরিজের সবচেয়ে বড় শক্তি

এই সিরিজটি যে ব্যাটারির জন্য আলাদা করে মনে রাখা হবে, তা বলা যায় নিশ্চিতভাবেই। 6500mAh বিশাল ব্যাটারি সহজেই দেড় থেকে দুই দিন চলতে পারে। সাথে রয়েছে 80W SuperVOOC ফাস্ট চার্জিং, যা প্রায় ৫০ মিনিটে ১০০% চার্জ দিতে সক্ষম। ভারী ব্যবহারকারীদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে বড় সুবিধা।

সফটওয়্যার ও ফিচার

ফোনটি চলে Android 16 ও ColorOS 16–এর ওপর, যা ফিচার-রিচ ও কাস্টমাইজেশনে ভরপুর। ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর, স্টেরিও স্পিকার, NFC, ইনফ্রারেড পোর্ট—সব মিলিয়ে ফিচারের ঘাটতি নেই।

সবকিছু মিলিয়ে Oppo Reno15 এমন একটি ফোন, যা মিড-রেঞ্জ দামে প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা দিতে চায়—এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সফল। শক্তিশালী ডিসপ্লে, ব্যালান্সড পারফরম্যান্স, কার্যকর টেলিফটো ক্যামেরা আর বিশাল ব্যাটারি—এই কম্বিনেশন যদি সঠিক দামে আসে, তাহলে Reno15 সহজেই মিড-রেঞ্জ সেগমেন্টে রাজত্ব করতে পারে।

Leave a Comment