Motorola তাদের স্মার্টফোন যাত্রায় নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে Motorola Signature সিরিজ দিয়ে। Edge সিরিজের ওপরে এবং ফোল্ডেবল Razr সিরিজের পাশাপাশি অবস্থান করা এই নতুন ফ্ল্যাগশিপ লাইনআপ মূলত তাদের জন্য, যারা শুধু একটি ফোন নয়—একটি প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা খুঁজছেন। ভারতের সাব-৭০ হাজার রুপির সেগমেন্টে অবস্থান করা Motorola Signature শুরু থেকেই ক্যামেরা, ডিজাইন ও পারফরম্যান্স—সব দিকেই নিজেকে আলাদা করে তুলতে চায়।
Design & Display: পাতলা, মার্জিত এবং ভীষণ টেকসই
প্রথম দেখাতেই Motorola Signature-এর ডিজাইন নজর কাড়ে। মাত্র 6.99mm পাতলা বডি আর 186g ওজন ফোনটিকে হাতে নিলে হালকা কিন্তু দৃঢ় মনে হয়। বিমান-গ্রেড অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেমের সঙ্গে ফ্যাব্রিক-অনুপ্রাণিত ফিনিশ এটিকে একেবারে আলাদা ক্লাসে নিয়ে গেছে। Pantone কিউরেটেড দুই রঙ—Martini Olive আর Carbon—একদিকে সাহসী এলিগেন্স, অন্যদিকে মিনিমাল প্রিমিয়াম অনুভূতি দেয়।
পাতলা হলেও টেকসইতার কোনো আপস নেই। IP68 ও IP69 সার্টিফিকেশন, সঙ্গে MIL-STD-810H মিলিটারি-গ্রেড ডিউরেবিলিটি এবং Gorilla Glass Victus 2—সব মিলিয়ে এটি বাজারের সবচেয়ে শক্তপোক্ত আল্ট্রা-স্লিম ফোনগুলোর একটি।
সামনের দিকে রয়েছে 6.8-ইঞ্চি Extreme AMOLED LTPO ডিসপ্লে, প্রায় বেজেল-লেস কোয়াড-কার্ভড ডিজাইন সহ। 1.5K রেজোলিউশন, 165Hz রিফ্রেশ রেট, Dolby Vision HDR এবং সর্বোচ্চ 6,200 nits ব্রাইটনেস—এই স্ক্রিনে কনটেন্ট দেখা মানে একদম সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা। Pantone Validation থাকার কারণে রঙ ও স্কিন টোন বাস্তবের খুব কাছাকাছি থাকে।
OS & AI: স্মার্ট, পরিষ্কার এবং ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত
Motorola Signature চলে Hello UI (Android 16 ভিত্তিক)–এর ওপর, যেখানে অপ্রয়োজনীয় ব্লোট নেই। সবচেয়ে বড় কথা, Motorola দিচ্ছে ৭টি OS আপডেট এবং ৭ বছরের সিকিউরিটি আপডেট, যা এই সেগমেন্টে সত্যিই প্রশংসনীয়।
moto ai 2.0 ফোনটিকে আরও স্মার্ট করে তোলে—Next Move, Catch Me Up 2.0, Pay Attention, Remember This-এর মতো ফিচারগুলো ব্যবহারকারীর অভ্যাস বুঝে কাজ করে। Perplexity ও Copilot ইন্টিগ্রেশন, AI wallpaper, image generation—সবকিছুই অন-ডিভাইস AI দিয়ে চলে, ফলে প্রাইভেসি ও স্পিড দুটোই বজায় থাকে।
Performance: ফ্ল্যাগশিপ শক্তি, ঠান্ডা পারফরম্যান্স
Motorola Signature-এর ভেতরে রয়েছে Snapdragon 8 Gen 5, যা এত পাতলা ফোনে প্রথমবার দেখা যাচ্ছে। সঙ্গে ArcticMesh cooling system—কপার মেশ ও লিকুইড মেটাল ব্যবহার করে ফোনকে ঠান্ডা রাখে, ভারী ব্যবহারে তাপমাত্রা প্রায় 4.4°C পর্যন্ত কমাতে সক্ষম।
রিভিউ ইউনিটে থাকা 16GB LPDDR5X RAM ও 1TB UFS 4.1 স্টোরেজ পারফরম্যান্সকে একেবারে ফ্ল্যাগশিপ লেভেলে নিয়ে গেছে। দৈনন্দিন ব্যবহার থেকে শুরু করে মাল্টিটাস্কিং, 8K ভিডিও এডিটিং বা হাই-এন্ড গেমিং—সবই স্মুথ। BGMI-এর মতো গেম 120FPS-এ চলে একটানা, কোনো থ্রটলিং ছাড়াই।
Camera: Sony Lytia সেন্সরে ভরসা
ক্যামেরা বিভাগে Motorola Signature সত্যিই শক্তিশালী।
- 50MP Sony Lytia 828 (Main) – বাস্তবসম্মত রঙ, চমৎকার ডায়নামিক রেঞ্জ
- 50MP Periscope Telephoto (Sony Lytia 600) – 100x সুপার জুম, OIS, 4K 60fps Dolby Vision
- 50MP Ultra-wide – ভালো ডিটেইল ও ন্যাচারাল টোন
- 50MP Front Camera (Sony Lytia 500) – সেলফিতে ন্যাচারাল কালার ও ভালো স্কিন টোন
OIS, Dolby Vision 8K ভিডিও এবং শক্তিশালী জুম—সব মিলিয়ে এটি কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বেশ আকর্ষণীয়।
Battery & Charging
পাতলা ডিজাইনের মাঝেই রয়েছে 5,200mAh ব্যাটারি, যা অনায়াসে একদিনের বেশি চলে। বক্সে থাকা 90W ফাস্ট চার্জার দিয়ে ৪০–৪৫ মিনিটে ফুল চার্জ হয়ে যায়। 50W ওয়্যারলেস চার্জিং ও রিভার্স চার্জিং সাপোর্টও আছে, আর সবচেয়ে ভালো দিক—চার্জিংয়ের সময় তেমন গরম হয় না।
Verdict
Motorola Signature আসলে Edge-এর জনপ্রিয়তা আর Razr-এর ক্লাস—এই দুটোর মিশেল। প্রিমিয়াম ডিজাইন, শক্তিশালী Sony ক্যামেরা, টপ-টিয়ার পারফরম্যান্স এবং দীর্ঘমেয়াদি সফটওয়্যার সাপোর্ট এটিকে সাব-৭০কে সেগমেন্টে আলাদা করে তুলেছে। ₹59,999 থেকে শুরু হওয়া দাম এবং Signature Club-এর প্রায় ₹20,000 মূল্যের এক্সক্লুসিভ সুবিধা এটিকে সত্যিই একটি ভ্যালু-প্যাকড ফ্ল্যাগশিপ বানিয়েছে।
সব মিলিয়ে, Motorola Signature সত্যিই নিজের “Signature” রেখে যেতে পেরেছে।